ছবির এই যে পুতুলটিকে দেখছেন , এর ভদ্র চেহারায় কিন্তু বিভ্রান্ত হবেন না ! অনেকেই পুতুল পছন্দ করেন এবং ঘরে সাজিয়ে রাখেন । বড় বড় মানুষরাও শখের বশে মিকি মাউস , বারবি , উডি অথবা ডোরেমনের পুতুল সাজিয়ে রেখে দেন । হয়তো আপনার মনে ইচ্ছা জাগতে পারে যে , এই পুতুলটিকেও যদি ঘরে সাজিয়ে রাখা যেত ! ভূলে যান এই কথা ! কারণ এই পুতুলটিকে ঘরে এনে আপনি হয়তো আপনার মৃত্যু নিশ্চিত করে ফেলবেন !পুতুলটিকে আদর করে 'রবার্ট' ডাকা হয় । এটি 'Robert the haunted doll' অথবা 'Robert the enchanted doll' নামেও সুপরিচিত । এটি একসময় key west নামক জায়গার সম্পত্তি ছিল এবং এর মালিকের নাম ছিল ইউগিন অটো । পুতুলের ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে যে , এটি একটি অভিশপ্ত পুতুল এবং পুতুলের ভিতরে একটি শয়তান আত্না বাস করে ! এই কুখ্যাতি পুতুলটিকে দুনিয়াজোড়া পরিচিতি এনে দিয়েছে ।
এই অভিশপ্ত পুতুলটি যবে থেকে ফোর্ট ইষ্ট মার্টেল জাদুঘরে রয়েছে , তবে থেকেই Key west এর টুরিষ্টদের ভৌতিক অভিযানের তালিকায় পুতুলের নামটি থাকেই ।
রবার্টের চেহারার সাথে ২০ শতকের এক নাভাল অফিসারের মিল পাওয়া গিয়েছিল । পুতুলটির চুল মানুষের চুল দিয়ে তৈরী হয়নি , এর চুল তৈরীতে ব্যবহৃত হয়েছে সিনথেটিক উল ।
ইতিহাস অনুসারে , ১৯০৬ সালে ইউগিন কে একজন আফ্রিকান চাকর এই পুতুলটি উপহার দেয় । চাকরটি অটো পরিবারের অর্ন্তগত ছিল । কিন্তু চাকরটি কালো জাদু এবং ভূডু চর্চায় পারদর্শী ছিল এবং অটো পরিবারের জন্য সে অশান্তির কারণ হয়ে দাড়ায় । এজন্য তাকে বিদেয় করে দেয়া হয় । চাকরটি চলে যায় । কিন্তু পুতুলটি থেকে যায় । ঘটনার শুরু এরপর থেকেই ! শীঘ্রই অটো পরিবার টের পায় যে , পুতুলটিতে কিছু সমস্যা আছে ! ইউগিনের বাবা মা বলতেন , প্রায়ই নাকি তারা পুতুলটির সাথে ইউগিন কে কথা বলতে শুনতেন ! এবং তাদের কাছে মনে হতো , পুতুলটিও কথা বলছে ! প্রথমদিকে তারা মনে করতেন ইউগিনই কন্ঠস্বর পালটে অন্য গলায় কথা বলছে , কিন্তু তারা পরবর্তীতে বিশ্বাস করতে বাধ্য হলেন আসলে পুতুলটিই কথা বলতো !!
প্রতিবেশীরাও দাবী করেছিলেন , অটো পরিবার যখন বাড়িতে থাকতোনা , তখন রবার্ট মহোদয় কে বাড়ির এক জানালা থেকে অন্য জানালায় চলাচল করতে দেখা যেত ! অটো পরিবার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন এবং তারা আরো যোগ করেছেন , পুতুলটির ভিতর থেকে মাঝে মাঝে চাপা এক ধরনের হাসি বের হয়ে আসতো এবং বাড়ির এক রুম থেকে অন্য রুমে চোখের নিমিষে পুতুলটাকে দৌড়াতে দেখা যেত !